শেরপুরে জামায়াত নেতা হত্যার বিচার বর্তমান অন্তর্বর্তী সরকার না করলে এবং দেশে সহিংসতা ছড়িয়ে পড়লে আসন্ন নির্বাচন নিরপেক্ষ ও অবাধ হবে না বলে মন্তব্য করেছেন বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর সেক্রেটারি জেনারেল অধ্যাপক মিয়া গোলাম পরওয়ার।


শুক্রবার (৩০ জানুয়ারি) সকাল সাড়ে ১১টায় ব্রাহ্মণবাড়িয়ার বাঞ্ছারামপুর উপজেলার মাওলাগঞ্জ বাজার মাঠে উপজেলা জামায়াতে ইসলামী আয়োজিত নির্বাচনী জনসভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।


গোলাম পরওয়ার বলেন, শেরপুরে জামায়াতে ইসলামীর এক নেতাকে হত্যা করা হয়েছে, যা ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের প্রকাশ্য প্রচার শুরুর পর প্রথম হত্যাকাণ্ড। তাঁর দাবি, বিএনপির সন্ত্রাসীরা ওই নেতার ওপর নির্মম হামলা চালিয়েছে। এই ঘটনার বিচার সরকারকে করতেই হবে এবং খুনিদের দ্রুত গ্রেপ্তার করতে হবে। পাশাপাশি জামায়াতে ইসলামীসহ কোনো দলের প্রার্থীদের ওপর যেন আর হামলা না হয়, তা নিশ্চিত করার আহ্বান জানান তিনি। তা না হলে দেশ সহিংস হয়ে উঠবে এবং সে ক্ষেত্রে নির্বাচন নিরপেক্ষ থাকবে না বলে তিনি সতর্ক করেন।


তিনি আরও বলেন, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে বিএনপির কিছু নেতার বক্তব্যে নারীদের প্রতি হুমকি ও সহিংসতার ইঙ্গিত পাওয়া যাচ্ছে। তাঁর অভিযোগ, নির্বাচনী কাজে দাঁড়িপাল্লার পক্ষে কাজ করতে গেলে নারীদের ওপর হামলা ও লাঞ্ছনার হুমকি দেওয়া হচ্ছে। তিনি প্রশ্ন তোলেন, নির্বাচনের আগেই যদি এ ধরনের আচরণ করা হয়, তাহলে ক্ষমতায় গেলে তারা কী করবে।


গোলাম পরওয়ার বলেন, ক্ষমতায় যাওয়ার আগেই যদি হত্যা, চাঁদাবাজি ও সহিংসতা চলে, তাহলে ভবিষ্যতে হিন্দু-মুসলিম কারও জানমালের নিরাপত্তা থাকবে না। তিনি বলেন, একটি নিরাপদ বাংলাদেশ গড়তে হলে দাঁড়িপাল্লাকে বিজয়ী করতে হবে।


বাঞ্ছারামপুর উপজেলা জামায়াতে ইসলামীর আমির আবুল বাশারের সভাপতিত্বে জনসভায় আরও বক্তব্য রাখেন জেলা জামায়াতের আমির মোবারক হোসেন, সেক্রেটারি আমিনুল ইসলাম, ব্রাহ্মণবাড়িয়া-৬ (বাঞ্ছারামপুর) আসনে জামায়াতে ইসলামীর মনোনীত প্রার্থী মো. মহসিন এবং ব্রাহ্মণবাড়িয়া-৫ (নবীনগর) আসনে ১১ দলীয় জোট সমর্থিত প্রার্থী আমজাদ হোসেন আশরাফীসহ স্থানীয় নেতৃবৃন্দ।